Saturday, 6 February 2016

প্রথম প্রেম

সায়ক চক্রবর্তী

তার সাথে সময় গুলি বেশ ছিল...ব্যাচে একসাথে পাশাপাশি বসতাম, বেঞ্চের তলায় লুকিয়ে হাত ধরা, পায়ে-পায়ে ঘষাঘষি এসব দুস্টু-মিস্টি হরকৎ চলতো, তারপর পড়া শেষে একসাথে হাত ধরে বিজেপি তে বসা ( বিজেপির ভাইবোনেরা, দয়া করে ভুল বুঝবেন না, আমি বাঘা যতীন পার্ক এর কথা বলছি), অনেক রঙিন সপ্ন দেখা, তারপর তার সাথে নানা অলিগলি ঘুরে ইচ্ছে করে দেরিতে বাড়িতে ঢোকা..এসবের একটা অন্যরকম মাত্রা ছিল সেই সময়..তখন তো আর আজকের মতো ঘ্যামা ফোন ছিলনা, ছিল একটা পৌরানিক যুগের নোকিয়ার সাদাকালো ফোন..ম্যাসেজ প্যাক চলতো , দিনে ১০০টা ম্যাসেজ এর মধ্য আদানপ্রদান হতো আমাদের যাবতীয় আনন্দ -ভালোভাসা-রাগ-দুঃখ, রাতে আবার চলত ফোনালাপ..প্রবল শীতেও ফুল স্পীডে ফ্যান ছেড়ে যাতে বাবা-মা শুনতে না পায়...শরীরে এনার্জিও তখন ছিল প্রচুর, তার এক ঝলক পাওয়ার জন্য শীত-গ্রীস্ম-বরসা যাইহোক না কেন, সাইকেল নিয়ে ছুটে যেতে একবারও ভাবতে হতো না...আরো একটা ছিল, সে তার বাড়ির ব্যালকনিতে, আর আমি নিচে রাস্তায়...দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলা, সেও এক মজাদার অনুভূতি..
তারপর?
তারপর আর কি? যেটা হয়, সেটাই হল..প্রেমের নটে গাছ মুড়লো...দাড়ি পড়ল জীবনের প্রথম প্রেমের অধ্যায়ে...
আসলে আমার মনে হয় প্রেমে নায়ক-নায়িকা অতটাও ইম্পরট্যান্ট না, যতটা সেই সময়টা ইম্পরট্যান্ট, যতটা সেই মুহুরত গুলি ইম্পরট্যান্ট, যতটা সেই ফ্লেবারটা ইম্পরট্যান্ট...চিরজীবন একসাথে থাকাটা অতটাও ইম্পরট্যান্ট না, যতটা সেই অভিজ্ঞতাগুলো চেখে দেখা ইম্পরট্যান্ট, সেই স্বাদটা নেওয়া ইম্পরট্যান্ট
আসলে প্রথম প্রেম একটা হেব্বি অনুভুতি...যেরকম প্রথম সিগারেট খাওয়া, প্রথম ব্লুফিল্ম দেখা, মনে পড়লে নিজের প্রতি একটা " ওয়াও ফিলিংস " অনুভুত হয়...
শীতকালে গাছের পাতা ঝরে,বসন্তের আবহে আবার নতুন পাতা জন্মায়...আবার পাতা ঝরে, আবার পাতা জন্মায়...

মানুষগুলো চলে যায়, কিন্তু স্মৃতিগুলো বেঁচে থাকে, মনের এক অতল, অন্ধকার কঠুরিতে...
স্মৃতি

সায়ক চক্রবর্তী

আলো গুলো একে একে নিভে গেছে শহরের বুকে নেমে এসেছে একমুঠো অন্ধকার।যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখানে ওখানে,যার সাথে মিশে আছে এক অজানা রহস্য। 
তখনও রাস্তার পাশের কেকের দোকানটার বড় আলোটা নেভেনি,দূর হতে কিছু আবছায়ার ঘোরাঘুরি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।ডাস্টবিন কুরেকুরে খাচ্ছে তারা।
পাশের বাস স্টপেজটায় শিশুটি ছোট্ট পুতুলকে আগলে ঘুমোচ্ছে আর পুতুলটিকে শীতের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জাপটে ধরে আছে।পাশেই কোথায় শোনা যাচ্ছে বোতলের টুংটাং শব্দ,কে যেন একফোঁটা জলের জন্য হাতরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তার হাতে শুধুই ফাঁকা রঙিন বোতল এসে ধরা দিচ্ছে।তখনও ঋজু বাড়ি ফেরেনি, তার মা খাবার টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। হঠাৎই তার মায়ের ওয়াচম্যানের বাঁশির শব্দে ঘুম ভেঙে গেল,ঘড়িতে ২টো বেজে ১০।অস্বস্তির মুঠোফোন টাও বন্ধ বলছে।
তার মা উঠে তার শোয়ার ঘরে যেতেই খুলে ফেললো তার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারটা কিছু সময় অবকাশের পর হাতে এলো........

সময়ের কাঁটা ৪এর ঘর ছুঁই ছুঁই। আর ভেশে আসছে না বোতলের টুংটাং, আবছায়া গুলোও অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে।
ঋজুর হাত গিয়ে পড়ল কলিং বেলে।দু-তিনবার বাজার পর দেখল দরজাটা খোলাই আছে। সে ভিতরে ঢুকে খাওয়ার ঘরে যেতেই দেখল তার জন্য একটা বড়দিনের কেক ও পাশে পড়ে থাকা একটি চিঠি তাতে লেখা আছে " তোর বাবাকে হারিয়েছিলাম এই বড়দিনের শেষে..........."
লেভেলক্রসিঙ
সায়ক চক্রবর্তী



লেভেলক্রসিঙের গেট পড়েছে। রাত বাড়ছে,বৃষ্টি পড়ছে ঝিরঝিরিয়ে।আমার বাইকটা ছাড়া আর একটাও গাড়ি নেই।ট্রেনটা তীব্র হুইশিল বাজিয়ে পাস করছে।ট্রেনের আলোয় মেয়েটাকে কয়েক ঝলক দেখলাম।গেটে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওপারে,এত রাতে! অল্পবয়সী মেয়ে একা! গেট খুললে লাইন পার হলাম,হঠাৎ গাড়িটা ঘরঘর আওয়াজ তুলেই একদম থেমে গেল। আরে কি হল! নামলাম তেল ঠিক আছে আবার স্টার্ট নিলাম,ঠিক আছে। মেয়েটাকে দেখলাম না কোথায় গেল?একটু চালানোর খেয়াল করলাম আমার পিছনে কেউ বসে আছে,তার ভারটা বুঝছি,লেডি ডায়নার গন্ধ,ঘাড়ের কাছে চুলের যেন সুড়সুড়ি,একটু ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম কেউ নেই।কিন্তু অনুভবে বুঝেছি পিছনে একজন মহিলা আছে,শিরশির করে উঠল শরীর। রাত একটা,এখনও বাড়ি দূরে ,শীত করছে,নড়তে পারছি না।একটু দূরে আলো,কালীবাবুর ঘাট শ্মশান।ওখানে তবু লোক থাকতেও পারে।শ্মশানের সামনে গাড়িটা ফের থেমে গেল,চারজন লোক বসে মদ খাচ্ছেদূরে চিতা জ্বলছে,আবার গাড়ি স্টার্ট করলাম।ফের চলতে শুরু করল,এবার খেয়াল পিছনে ভারটা নেই,আমি একা।যে ছিল সে নেমে গেছে,রয়ে গেছে একটা হালকা সুবাস।।