Thursday, 28 April 2016

গোঁফ চুরি 



ইদানীং গোপাল ইয়া মোটা গোঁফ রেখেছে। পুরুষ্টু গোঁফ থাকলে লোকে মান্যি গন্যি করে। বাড়ির সব্বার আপত্তি এই পেল্লাই গোঁফে, তার বান্ধবী বিনি'র তো দু চোখের বিষ। কিন্তু গোপালের সাফ কথা, রেললাইনে বডি দেবো গোঁফ দেবো না।
.
থানার ডিউটি অফিসার তার লিখে নিয়ে যাওয়া দরখাস্তের একটা কপিতে সই করে, নাম্বার লিখে, সিল দিয়ে ফেরৎ দিয়ে দিলেন।
গোপাল থানা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় বড়বাবু তাঁর বিশাল বডি নিয়ে থানায় ঢুকলেন। গোপালের মুখোমুখি হতেই বললেন, হুম, বেড়ে গোঁফ তো । তা কি করা হয়?
-- চাকরি না মানে চাকরির জন্য দরখাস্ত।
বড়বাবু একজন কনস্টেবলকে বললেন, একে বসিয়ে রাখ ।
গোঁফের গর্বে গর্বিত গোপাল ভাবল, গোঁফ কি করে মেনটেন করতে হয় বড়বাবু বোধহয় তারই টিপস নেবেন।
.
বড়বাবু নিজের চেম্বারে ঢুকেই চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন। বাইরে একটা চেয়ারে গোপালকে বসতে বলা হলো।
চারদিন আগেই এই থানা এলাকায় একটা খুব বড় ডাকাতি হয়েছে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। পুলিশ কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এস পি বড়বাবুকে তলব করেছিলেন। সাফ সাফ বলে দিয়েছেন, চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে অন্তত একজন ডাকাতকে না অ্যারেস্ট করতে পারলে, চাকরি ঘচাং ফু হয়ে যাবে। উপরমহল নাকি টগবগ করে ফুটছে।
তারপর বড়বাবু যা বললেন শুনে গোপালের অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়।
-- অই যে গুঁফো ছেলেটা, যাকে বসিয়ে রাখতে বললাম, ওকেই চালান করে দাও। বেশ একটা পেল্লাই গোঁফ আছে। ডাকাত বললে লোকের মনে ওইরকম গুঁফো একটা মুখের ছবিই ভেসে ওঠে।
শুনেই গোপালের ভয়ে পটি-টটি সব পেয়ে গেল। কি বলছে কি বড়বাবু? তাকে গ্রেপ্তার করবে? সে ডাকাত? সাধের গোঁফ আজ তাকে ডাকাত বানিয়ে দিলো?
-- এই যা ওকে লক আপে ভরে দে। আগে এস পি সাহেবকে খবরটা দিই তারপর মিডিয়াকে দেবো।
তারপরেই বড়বাবু ফোন করলেন এস পি সাহেবকে
-- স্যার আমি আইসি তফাদার বলছি, একজনকে ধরেছি স্যার। অ্যাঁ? কি বলছেন? ধরা পড়ে গেছে? টাকা -গয়না সমেত? ও আচ্ছা স্যার, হ্যাঁ স্যার, স্যার...
ফোন রেখে দিয়ে বড়বাবু হাঁকলেন, অ্যাই ওই গুঁফো ছোকরাটাকে ভাগিয়ে দে। ডাকাতের দলটা ঝাড়খন্ড বর্ডারে ধরা পড়ে গেছে।

...শুনেই চোঁ চা দৌড় লাগালো গোপাল। ওহ, কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল গুলিটা। আর একটু হলেই জেলের ঘানি... একটা সেলুন দেখেই ঢুকে পড়ল গোপাল.. চেয়ারে বসে বলল, গোঁফটা উড়িয়ে দাও।

No comments:

Post a Comment